শ্রীপুরে চিহ্নিত মাদক কারবারী ও চাঁদাবাজদের তাণ্ডবে প্রাইম স্টার একাডেমি'র অফিস কক্ষ
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার ‘প্রাইম স্টার একাডেমি’তে প্রকাশ্যে ধারালো দা উঁচিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারী ও চাঁদাবাজদের তাণ্ডবের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আসবাবপত্র ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরসহ তিন লাখ টাকা চাঁদা না দিলে পরিচালককে হত্যার হুমকির পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন, যার ফলে চলমান পরীক্ষা ও স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে দিনদুপুরে এ ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী সোহেল (৪৫) এবং তার সহযোগী মজিবুর রহমান (৪৮) হাতে ধারালো দা নিয়ে হঠাৎ প্রাইম স্টার একাডেমির অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাহতাব উদ্দিনের কাছে সরাসরি ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা ধারালো দা উঁচিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং গালিগালাজ করতে থাকে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা প্রশাসনিক কক্ষের একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুটেজ সংরক্ষণের ডিভিআর বক্স এবং ভেতরের বেশ কিছু মূল্যবান আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করে। ঘটনাটির সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছিল। দিনদুপুরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের এমন তাণ্ডব ও ভাঙচুর দেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং অনেকে ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে চলে যায়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা আবারও ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করতে এলে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের প্রতিহত করে একজনকে ধরে নিয়ে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে।
ঘটনার দুই দিন পর, ২০ আগস্ট অত্র প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। যার সংবাদ ও ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সোহেল নিজের অপরাধ ঢাকতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান পরিচালক মাহতাব উদ্দিনসহ ৩ জনের নামে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ৩১ আগস্ট মাহতাব উদ্দিন উক্ত মিথ্যা মামলা থেকে জামিনে মুক্তি পান।
এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, ছাত্র ও অভিভাবকদের প্রতিবাদ তোয়াক্কা না করে অভিযুক্ত সোহেল ও তার সহযোগী মজিবুর গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পুনরায় লাঠিসোঁটা নিয়ে স্কুলে হামলা চালায়। তারা স্কুলের আসবাবপত্র, প্রধান ফটক ও স্কুলের গাড়ি ভাঙচুর করে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর পর দুটি হামলার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। পরীক্ষা ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে।
এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ ও অভিযোগ, হামলাকারী সোহেল ও মজিবুর স্থানীয়ভাবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেড়াইদেরচালা এলাকায় মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এবং অবাধে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। অভিযুক্ত সোহেলের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বের হয়ে সে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বর্তমানে পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।
প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। একই সাথে স্কুলের শিক্ষক ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।